fbpx

Birthday of Kolkata: ‛তুমিও হেঁটে দেখ কলকাতা..’, নানা রঙের মোড়কে মোড়া তিলোত্তমা! তবু নেই এই শহরের কোনও জন্মদিন

কলকাতার জন্মদিন লিখে ইন্টারনেটে সার্চ করলে উঠে আসে ২৪ আগস্ট, ১৬৯০ তারিখটিই। নিছক ইংরেজদের গেঁথে দেওয়া ধারণার অভ্যাস, নাকি নির্দিষ্ট একটি শুরু না পেলে খেই হারিয়ে ফেলি আমরা?

জয়িতা চৌধুরি,কলকাতাঃ দিনটি ছিল ১৬৯০ সালের ২৮ আগস্ট। মুঘল বাদশাহ আওরাঙ্গজেবের আমন্ত্রণে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কুঠিয়াল জব চার্নকের তৃতীয় বারের জন্য সুতানুটির ঘাটে বজরা নোঙর ফেলেছিল। আর জন্ম হয়েছিল আমার আপনার সকলের শহর কলকাতার। অনেকের ধারাণা এদিনটাই নাকি শহর কলকাতার জন্মদিন। কিন্তু তা লোককথা মাত্র যা নিয়ে বুদ্ধিজিবী মহলে তর্কের শেষ নেই। তবে সত্যিই কি জব চার্নক কলকাতার জন্মদাতা? এ প্রসঙ্গে রাধারমণ মিত্র তাঁর লেখা ‘কলকাতার বিচিত্রা’ বইতে লিখেছেন, জব চার্নক কলকাতার প্রতিষ্ঠাতা নন। শুধু তাই নয়, তাঁর সপক্ষে তিনটি প্রমাণও দেখান…

kolkata 1

  • ১৪৯৫ খ্রিষ্টাব্দে বিপ্রদাস পিপলাই রচিত মনসাবিজয় কাব্যে ‘কলিকাতা’র উল্লেখ আছে – ‘পূর্ব কূল বাহিয়া এড়ায় কলিকাতা/বেতোড়ে চাপায় ডিঙ্গা চাঁদো মহারথা।’ অনেকে বিপ্রদাসের লেখায় ‘কলিকাতা’ শব্দটি প্রক্ষিপ্ত অর্থাৎ পরে সংযোজিত, এমন বলেছেন। রাধারমণের যুক্তি, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কোনোকিছুকেই প্রক্ষিপ্ত বলে উড়িয়ে দেওয়া অন্যায়।
  • ১৫৯৪ থেকে ১৬০৬ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচিত মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর চণ্ডীমঙ্গল কাব্যেও রয়েছে কলকাতার উল্লেখ – ‘কলিকাতা এড়াইল বেনিয়ার বালা/বেতোরেতে উত্তরিল অবসান বেলা।’ এটিকেও অনেকে প্রক্ষিপ্ত বলে দেগে দিয়েছেন।
  • ১৬৭৬-৭৭ সালে কৃষ্ণরাম দাস রচিত কালিকামঙ্গল কাব্যে স্পষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায় কলকাতার – ‘অতি পুণ্যময় ধাম/সরকার সপ্তগ্রাম/কলিকাতা পরগণা তায়।’ যা থেকে প্রমান হয় জব চার্নক আসার আগেও কলকাতা শহরের অস্তিত্ব ছিল।

kolkata 2

২০০১-এ সাবর্ণ রায়চৌধুরী ও তাঁর পরিবার কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থবিরোধী একটি মামলা দাখিল করে। সেই মামলার পক্ষে ছিলেন রাধারমণ মিত্র-সহ ন’জন নাগরিক এবং সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার পরিষদের তিনজন। প্রতিবাদী পক্ষে – ১। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য, ২। কলকাতা পুরসভা, ৩। কলকাতা পুরসভার মহানাগরিক, ৪। কলকাতা পুরসভার কমিশনার, ৫। পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষাবিভাগের সচিব এবং ৬। ভারত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারবিভাগের সচিব। বাদীপক্ষের হয়ে সওয়াল করেছিলেন স্মরজিৎ রায়চৌধুরী ও অজিত পাঁজা। প্রতিবাদী পক্ষের হয়ে সওয়ালে ছিলেন অ্যাডভোকেট বলাই রায়।

kolkata

মামলার দরুন ২০০২ সালে তৈরি হয় পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি। কমিটির কাছে জানতে চাওয়া হয় ১। কলকাতার জন্মতারিখ কি ২৪ আগস্ট ১৬৯০, না অন্য কোনো তারিখ?
২। জোব চার্নক কি কলকাতার প্রতিষ্ঠাতা? তিনি না হলে প্রতিষ্ঠাতা কে?
অনুসন্ধানের পর, কমিটির সদস্যরা রিপোর্ট তৈরি করে ২০০২-এর নভেম্বরে হাইকোর্টে পেশ করেন। আদালত রায় দেন, কলকাতার জন্ম-তারিখ ও প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে জোব চার্নকের নাম পাঠ্যপুস্তক ও অন্যান্য নথি থেকে মুছে দেয়। ইতিহাস বইয়েও এ-জাতীয় কোনো লেখার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়।

google-news-icon

লেটেস্ট খবর