fbpx

Tarun Majumdar: সিনে পোকার নাড়ায় পরিচালক! ‘চিরতরুণ’-এর জীবন যেন লেন্সবন্দি নানা রঙিন স্মৃতির বাহার

মন্টি শীল, কলকাতা : টলিউডের ফের নামল শোকের ছায়া। জীবন যুদ্ধে পরাজিত হয়ে নক্ষত্রের দেশে প্রস্থান করলেন জনপ্রিয় পরিচালক তথা ‘দাদার কীর্তি’-র স্রষ্টা তরুণ মজুমদার ( Tarun Majumdar )। গত ১৪ ই জুন থেকে বার্ধক্য জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতার এক সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন টলিউডের এই বর্ষীয়ান পরিচালক। জানা গিয়েছে, দীর্ঘ দু’দশক ধরে কিডনির সমস্যা নিয়ে ভুগছিলেন তরুণ মজুমদার ( Tarun Majumdar )। শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি ছিল হৃদযন্রের সমস্যাও।

টলিউড এর এই বর্ষীয়ান জনপ্রিয় পরিচালকের জন্মগ্রহণ করেছিলেন ৪ঠা জানুয়ারি ১৯৩১ সালে ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষের বগুড়ায়। তাঁর পিতা বীরেন্দ্রনাথ মজুমদার ছিলেন একজন ভারতবর্ষের মুক্তি যোদ্ধা। পরিচালক তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু করেছিলেন সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল মিশন কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত স্কটিশ চার্জ কলেজ থেকে রসায়নে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। জানা গিয়েছে, পরিচালক তরুণ মজুমদার ( Tarun Majumdar ) শচীন মুখার্জি এবং দিলীপ মুখার্জির হাত ধরে ‘যান্ত্রিক’ সিনেমার মধ্যে দিয়ে পরিচালনার জগতে আত্মপ্রকাশ করেন।

4c42

এরপর ১৯৫৯ সালে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা সুচিত্রা সেন এবং উত্তম কুমার অভিনিত সিনেমা ‘চাওয়া পাওয়া’-তে একজন পূর্ণাঙ্গ পরিচালক হিসেবে বিনোদনের জগতে পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। পরিচালক তরুণ মজুমদার ( Tarun Majumdar ) সিনেমা পরিচালনার সঙ্গে সঙ্গে পেয়েছেন একাধিক সম্মানিয় পুরস্কার। যার মধ্যে অন্যতম হল, ১৯৬২ সালে জনপ্রিয় বাংলা চলচ্চিত্র ‘কাঞ্চের বর্গের’ জন্য প্রথম জাতীয় পুরস্কার পান। এছাড়াও পরিচালক তাঁর অসাধারণ সৃষ্টির জন্য ‘বিএফজেএ পুরস্কার’ এবং একটি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডও পান।

তবে আপামোর বাঙালি দর্শকের হৃদয়ে পরিচালক তরুণ মজুমদার ( Tarun Majumdar ) গেঁথে রয়েছেন তাঁর অন্যতম সৃষ্টি ‘দাদার কীর্তি’ পরিচালনার জন্য। ১৯৮০ সালে মুক্তি পাওয়া এই জনপ্রিয় বাংলা সিনেমা রীতিমতো মন জয় করে নিয়েছিল বাঙালি দর্শকদের। যদিও পরিচালকের পরিচালিত অন্যতম জনপ্রিয় সিনেমা, বালিকা বধু, কুহেলি, পৃথ্বীরাজ, ফুলেশ্বরী, আপন আমার আপন আজও সিনেমা প্রেমীদের মনে গেঁথে রয়েছে। তবে একটা কথা না বললেই নয়, পরিচালক তরুণ মজুমদার ( Tarun Majumdar ) আজ হয়তো আমাদের মাঝে আর নেই। কিন্তু রয়ে গিয়েছে তাঁর আশ্চর্যজনক কিছু সৃষ্টি। যা যুগের পর যুগ ধরে আপামোর বাঙালি সিনেমা প্রেমীদের এক নতুন পথ অনুসরণ করতে সহায়তা করবে।

google-news-icon

লেটেস্ট খবর