fbpx

BodhisattworBodhbuddhi: শেষমেষ হ্যাকিং! ক্লাস ফোরের ছেলের ‘এঁচোড়ে পাকা বুদ্ধি’ নিয়ে কটাক্ষ দর্শকের

সৌমি ঘোষ,কলকাতা: বিদ্যে বোঝাই বাবুমশাই তো আপনারা অনেক শুনেছেন, কিন্তু বিদ্যের জাহাজ ছোট্ট বোধিকে আপনারা চেনেন কি? ইতিমধ্যেই জি-বাংলার পর্দায় ছোটদের নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন স্বাদের ধারাবাহিক ‘বোধিসত্ত্বের বোধবুদ্ধি’। গল্পের প্রাণকেন্দ্র বোধি ওরফে রায়ান গুহনিয়োগী। বয়েসে ঐ বছর আষ্টেক কিন্তু বুদ্ধিতে সে হার মানায় দিদিমনি মাষ্টারমশাইদেরও। রোজ তার নিত্যনতুন আজগুবি কান্ডে জেরবার বাড়ির লোক থেকে স্কুলের শিক্ষক সকলে। এবার সে কি এমন কান্ড করে বসল,যে সিরিয়ালের বাস্তবতা নিয়েই উঠল প্রশ্ন?আসুন জেনে নিই-

বাংলা ধারাবাহিকে ছোটদের সিরিয়াল বরাবরই পপুলার হয়। ভুতু, পটল, ঝিলিক সকলকেই মনে রেখেছে দর্শক। তবে বোধিসত্ত্ব কিন্তু ছোট হয়েও ছোট নয়। ক্লাস ফোরে পড়া বোধি আসলে জ্ঞানের ভান্ডার। ক্লাস নাইনের পড়া সে অনায়াসে বলে। ইতিহাসের শিক্ষিকা বিট্রিশ সরকারকে দোষারোপ করলে, বোধির সোজা উত্তর ‘জাতি বিদ্বেষী’। অংকের স্যারের কাছে শিখতে চায় পারমুটেশন-কম্বিনেশনের জটিল অঙ্ক। অজস্র প্রশ্ন মাথায় কিলবিল করে বোধিসত্ত্বের। আর তাই বাইরের জগতে সে ঠিক স্বাভাবিক আর পাঁচজন পড়ুয়াদের মতো নয়। সমাজে ‘এগিয়ে থাকা’ আর ‘পিছিয়ে পড়া’র আপেক্ষিক ধারণা গুলোকে বদলে দিতেই এই ধারাবাহিক। বোধির বিশেষত্বকে
কেউ বোঝে না। পরিবার পরিজন থেকে বাইরে আত্মীয় সকলেই বলে ‘পুঁচকে ছোঁড়ার পাকামি’।

 

তবে এবার প্রোমোতে ফাঁস হল এক তাজ্জব কান্ড। ধারাবাহিকের ক্লাস ফোরের বোধি হয়ে গেল পাকাপোক্ত হ্যাকার। মেশিন পত্র নিয়ে, কাকিমার সিরিয়াল দেখার বায়না মেটাতে ডিস টিভিতে সিগন্যাল ট্র্যাক করে ফেলল। কিন্তু একি সিরিয়াল নয় বরং টিভিতে ভেসে উঠল থানার সিসিটিভি ফুটেজ। এ কোন নতুন বিপদ ডেকে আনল বোধি?

এই দৃশ্য মজাদার হলেও সিরিয়ালের বাস্তবতাকে
ফেলে দিল প্রশ্নের মুখে। ক্লাস নাইন টেনের পড়া মুখস্থ বলা বা বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করা তবু সম্ভব। কিন্তু হাতে কলমে হ্যাকিং করা কি ‘ছেলেখেলা’?সেই নিয়েই হচ্ছে তুমুল চর্চা। কেউ বলছেন ‘বাচ্চাকে বাচ্চার মতো থাকতে দিন’, কেউ বলছেন ‘ইঁচড়ে পাকা’, কেউ কেউ যেসব বাচ্চারা এই সিরিয়াল দেখছে তাদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন। বোধিকে নকল করতে গিয়ে যদি ইলেকট্রিক শক লাগে বা দামি জিনিস নষ্ট হয়, তার দায় কার! আবার বাংলার হ্যাকাররা তো হেসে উল্টেই যাচ্ছেন। তাদের বক্তব্য ‘আমাদের চাকরি খেয়ে নেবে, এই পুঁচকে ছেলে’। কেউ বলছেন ‘এতই সহজ, বছরের পর বছর ধরে হ্যাকিং শিখে কী করলাম আমরা’। শুরু হতে না হতেই ট্রোলিংয়ের মুখে জেরবার বোধিসত্ত্ব।

ধারাবাহিকের নিয়মিত দর্শকরা অবশ্য নিছক আনন্দ উপভোগ করতেই ভালোবাসেন। তারা বলছেন, সিরিয়ালের নামেই আছে বোধিসত্ত্বর বোধবুদ্ধি একটু আলাদা ধাঁচের। সবসময় যে কান্ডই করুক তার উল্টো ফল হয়, আর তা থেকেই পাওয়া যায় হাসির রসদ। নিন্দুকের মুখে ছাই দিয়ে বোধিসত্ত্ব যে একদিন সেরার তালিকায় স্থান করে নেবে, এ নিয়ে আশাবাদী নিয়মিত দর্শকরা।

google-news-icon

লেটেস্ট খবর