fbpx

Prayagraj: হাসপাতাল থেকে মেলেনি অ্যাম্বুলেন্স! ছেলের মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে বাড়ির পথে বাবা

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তরফে মেলেনি কোনও গাড়ি। দিশেহারা হয়ে হাঁটা পথেই গ্রামে রওনা

স্বাস্থ্য নিয়ে সেই নয়ছয়। তাও আবার যোগী রাজ্য ( Uttar Pradesh )। দু’দিন আগেই কুশীনগরের এক মা’কে সন্তানের নিথর দেহ কোলে নিয়ে হাঁটতে দেখা গিয়েছিল। দৃশ্য দেখে চোখ কপালে উঠেছিল দেশবাসীর, এ বার সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। ১৪ বছরের ছেলের দেহকে কাঁধে নিয়ে গ্রামের উদ্দেশে হাঁটা দিলেন বাবা। এবারের ঘটনাটি প্রয়াগরাজের ( Prayagraj )।

বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ  হওয়ার পর ছেলে শুভমকে প্রয়াগরাজের স্বরূপরানি নেহেরু হাসপাতালে ( Hospital ) নিয়ে গিয়েছিলেন বজরঙ্গী যাদব। চিকিৎসা চলাকালীনই মৃত্যু হয় ছেলের। পুত্র হারা হয়ে যান শুভমের অভিভাবক। মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার দেহ ছেড়ে দিলেও দেহ কী ভাবে বাড়ি নিয়ে যাবেন এই ভাবনায় চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন দম্পতি। 

কিন্তু বজরঙ্গীর এমন দিশেহারা পরিস্থিতি পাশে দাঁড়াল না হাসপাতালও। কর্তৃপক্ষের কাছে ছেলের মৃতদেহ বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স অথবা শববাহী গাড়ি চেয়েছিলেন বজরঙ্গী। কিন্তু তাতেও কোনও লাভ হয়নি। কোনও রকম গাড়ির ব্যবস্থাই করে দেননি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দিন আনা দিন খাওয়া বজরঙ্গীর পকেটে এতটাও টাকা নেই যে নিজের মৃত সন্তানের জন্য় একটা অ্যাম্বুলেন্স কিংবা শববাহী গাড়ি ভাড়া করবেন। তাঁর দাবি, এক একটি গাড়ি প্রচুর ভাড়া চাইছিল,যা তাঁর পক্ষে দেওয়া কোনও ভাবেই সম্ভব নয়। 

উল্লেখ্য়, এমন দিশেহারা পরিস্থিতি কোনও উপায় না দেখে শেষে ছেলের দেহ সাদা কাপড়ে মুড়িয়ে কাঁধে ফেলে স্ত্রী’কে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন বজরঙ্গী। স্বাভাবিক ভাবেই রাস্তা দিয়ে কাঁধে করে এক মৃতদেহ নিয়ে যাচ্ছেন এক ব্যাক্তি, এমন দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান আম জনতা। তাঁদেরই সেই হেঁটে যাওয়া কেউ ক্যামেরা বন্দি করে নেট মাধ্যমে ছেড়ে দিতেই নিমিষে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সেই ভিডিও। জানা গিয়েছে,ছেলের দেহ কাঁধে নিয়ে ২৫ কিলোমিটার হাঁটা পথ অতিক্রম করে স্ত্রী’কে নিয়ে নিজেদের গ্রামে পৌঁছেছেন বজরঙ্গী। 

প্রসঙ্গত, ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য দফতর। রাজ্যের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারীক ইতিমধ্যে এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। স্বরূপরানি নেহেরু হাসপাতালের শীর্ষ কর্তা অজয় সাক্সেনার দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে হাসপাতালের কোনও যোগ নেই। কিন্তু বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে রাজ্য মানবাধিকার কমিশন।  

 

google-news-icon

লেটেস্ট খবর