fbpx

সত্যিই খুন নাকি নির্বাচনী প্রচার, কর্ণাটকের হিন্দু হত্যায় ৭ বছর পরেও প্রমাদ গুনছে আদালত

২০১৭ সাল। কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনের আগের মুহূর্ত ( Karnataka Hindutva Politics)। তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শোভা করন্দলাজে কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকারকে তোপ দেগে “হিন্দু-বিরোধী” বলে অভিযুক্ত করেন। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কাছে একটি চিঠি লেখেন।  এবং এই চিঠিই কর্ণাটকের রাজনীতিকে একেবারে পাল্টে দেয়। চিঠিতে বলা হয়েছিল, বিচ্ছিন্নতাবাদী’দের সাহায্যে তাঁদের দলের অন্তত ২৩জনকে খুন করেছে ( Karnataka Hindutva Politics)। কিন্তু সেই খুনের মামলা আজও চলছে। 

চিঠির বিষয়বস্তু কি ছিল? 

২০১৭ সালের কর্ণাটকে বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিজেপির মুখ্য অভিযোগ, তারা ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’দের সাহায্যে তাঁদের দলের অন্তত ২৩জনকে খুন করেছে। এই বিষয়ে উদুপির বিজেপি সাংসদ শোভা করন্দলাজে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে এই ২৩ জন মৃতদের নাম উল্লেখ করে একটি চিঠি লেখেন। এই চিঠিতে তৎকালীন সাংসদ দাবী করেছিলেন যে ২০১৪ থেকেই এই নরহত্যা চলেছে। এবং কর্ণাটকের তৎকালীন সরকারের সরাসরি মদত রয়েছে। এবং ‘জিহাদি’রাই এই খুন করছে। উল্লেখিত ‘জিহাদি’ বলতে এখানে ‘পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়া’ এবং ‘কর্ণাটক ফোরাম অব ডিগনিটি’ নামের দুই কট্টর মুসলিম সংঘটনের দিকে আঙ্গুল তোলা হয় ( Karnataka Hindutva Politics)। 

Karnataka Hindutva Politics

এই চিঠি সামনে আসার পরই ‘সঙ্ঘ পরিবার’ এই বিষয় তুলে ধরতে শুরু করে। বিধানসভা ভোটের নিরিখে এটি হয়ে ওঠে হট টপিক। কিন্তু যখন এই চিঠির সত্যতা যাচাইয়ের কথা উঠে আসে, তখন দেখা যায় এক নতুন চিত্র। এই চিঠিতে উল্লেখিত ২৩ জনের মধ্যে ১ জন আজও জীবিত, ২ জন আত্মহত্যা করেছিলেন এবং ২ জনকে তাঁদের বোন হত্যা করেছে।

আরও পড়ুন- শুক্রবার দোল, তারপর শনিবার-রবিবার; এই সুযোগ হাতছাড়া না করাই ভাল

চিঠিতে উল্লেখিত ঘটনার সত্যতা

 চিঠিতে উল্লেখ ছিল অশোক পূজারী,ভামান পূজারি এবং প্রশান্ত পূজারী দের জিহাদীতত্ব খুন করেছে। অর্থাৎ বিজেপির দাবি অনুযায়ী,  অশোক পূজারী ২০১৫ সালে ২০ ডিসেম্বর মারা গিয়েছেন। অথচ, এনডিটিভি-র একটি রিপোর্টের মতে, তিনি আজও বহাল তবিয়তে বেঁচে। রিপোর্টটির দাবি, তাঁদের একজন সাংবাদিক অশোকের সঙ্গে তাঁর গ্রামে গিয়ে দেখা করেছেন। অশোক পূজারির গ্রাম ম্যাঙ্গালোর থেকে ২ কিমি দূরে।

আসলে পূজারি বজরং দলের কর্মী। বিজেপির বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে একটি বাইকে করে যাওয়ার সময় তাঁর উপর ৬ অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী হামলা চালায়। তাঁর উপর হামলা চালানোর প্রধান কারণ হিসাবে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের ( Karnataka Hindutva Politics) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আততায়ীরা অশোকের মাথায় গেরুয়া পাগড়ি দেখে তাঁকে হিন্দুত্ববাদী হিসেবে চিহ্নিত করে এবং হত্যা করে। পূজারি খুবই সাধারণ এক ব্যক্তি। তিনি বিয়েবাড়িতে ড্রাম বাজানোর কাজ করে।

Karnataka Hindutva Politics

বর্তমানে এই কেসের অবস্থা 

তৎকালীন কর্ণাটক রাজ্য সরকার, তাঁর এই দাবি খারিজ করে, দাবি করেছেন, এই ২৩ জনের মধ্যে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যুতে কোনও ষড়যন্ত্র ছিল না। তাঁরা হয় ব্যক্তিগত শত্রুতার জন্য মারা গিয়েছেন অথবা আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু এসবের পর আজ প্রায় ৭ বছর অতিক্রান্ত। এখনও ২ ব্যক্তির ট্রায়াল চলছে। এরপর খোদ কর্নাটক থেকেই উঠে এসেছে একের পর এক ধর্মীয় ভেদাভেদের ঘটনা ( Karnataka Hindutva Politics)। তাই প্রশ্ন এখানেই, তাহলে কি এসব কেবলই রাজনীতি নাকি ‘দেশ সংকটে’ ?

আরও পড়ুন- আবারও পেছোল মুক্তির তারিখ,কবে মুক্তি পাবে অক্ষয় কুমার অভিনীত ‘পৃথ্বীরাজ’

google-news-icon

লেটেস্ট খবর