fbpx

Independence Day 2022: কখনও লাল, কখনও হলুদ! জানেন কি ভারতের ‘তেরঙা’ রঙের নেপথ্যে থাকা হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস?

স্বাধীনতার প্রাক্কালে কীভাবে গৃহীত হল আজকের জাতীয় পতাকা? দেখেনিন তাঁর পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস

মন্টি শীল, কলকাতা: আজ ১৫ ই আগস্ট, সমগ্র দেশ জুড়ে জাকজমকের সঙ্গে পালিত হচ্ছে ‘আজাদি কা অমৃত মহৎসব’। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ মতো গত ১৩ ই আগস্ট থেকে পালিত হচ্ছে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচী। সারা দেশের স্কুল , কলেজ থেকে শুরু করে বসতবাড়ি সর্বত্র উত্তোলন করা হচ্ছে দেশের জাতীয় পতাকা। কারণ এই পতাকা হল দেশের সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতার প্রতীক। দেশে যুদ্ধকালীন সংকট এবং তাঁর পরবর্তী সময়ে জাতীয় পতাকা এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু আপনি কি জানেন এই জাতীয় পতাকার এক গভীর ইতিহাস রয়েছে।

শোনা যায়, ১৯০৪ সালে প্রথমবার ভারতবর্ষের পতাকার নকশা তৈরি করেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ এবং সিস্টার নিবেদিতা। সেই সময় ভারতের জাতীয় পতাকা ছিল লাল এবং হলুদ রঙে রঞ্জিত এবং তাঁর মাঝখানে ছিল একটি ‘বজ্র’ চিহ্ন। মনে করা হত, এই বজ্র ছিল ভগবান বিষ্ণুর অস্ত্র। আর পতাকার দু’পাশে বাংলায় লেখা ছিল ‘বন্দেমাতরম’। এরপর ১৯০৬ সালে ভারতের জাতীয় পতাকার আরও একটি নকশা নজরে আসে। যেটি সবুজ, হলুদ এবং লাল এই তিনটি রঙে রঞ্জিত ছিল। সবুজ রঙের সারিটি ছিল একেবারে শীর্ষে এবং একেবারে নিচে হলুদ রঙের সারিতে দেবনাগরী হরফে লেখা ছিল ‘বন্দেমাতরম’। শোনা যায়, ১৯০৬ সালের ৭ ই আগস্ট প্রথম এই পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল কলকাতার গিরিশ পার্কে।

15c32

যদিও এই রঙের পতাকা বেশি দিনের জন্য স্থায়ী হল না। সূত্র অনুযায়ী, ওই বছরই সেই সময়ের বিখ্যাত কামা পতাকার নকশা তৈরি করেছিলেন ভিকাজি কামা, বীর সাভারকার এবং শ্যামজি কৃষ্ণ কুমার। এটিও ত্রিবর্ণ রঞ্জিত ছিল, কিন্তু তাঁর রঙ ছিল ভিন্ন। জানা গিয়েছে, সেই পতাকার রঙ ছিল জাফরান, হলুদ এবং সবুজ রঙের। যার একেবারে মাঝখানে লেখা ছিল ‘বন্দেমাতরম’। ইতিহাস অনুসারে, আন্তর্জাতিক মহলে সর্বপ্রথম এই রঙের পতাকা উত্তোলন করা হয়। যার পর স্বাভাবিক ভাবেই স্বাধীনতা সংগ্রামীরা এক নতুন অক্সিজেন পেয়েছিলেন বলে মনে করেন অনেকেই। এরপর ভারতের জাতীয় পতাকার পরবর্তী সংস্করণ নজরে আসে ১৯১৭ সালে।

এরপর একাধিকবার পরিবর্তন হতে থাকে ভারতের জাতীয় পতাকার রঙ। ইতিহাস অনুসারে, ১৯৩১ সালে কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশনের সময় একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়, প্রতি বছর ২৬ শে জানুয়ারি স্বাধীনতা দিবস হিসেবে উজ্জাপন করা হবে। আর সেই উপলক্ষ্যে তৈরি হয় পতাকার এক নতুন নকশা। যার একেবারে শীর্ষ ভাগে ছিল জাফরান, মধ্য ভাগে সাদা এবং নিম্ন ভাগে সবুজ। শুধু তাই নয়, সাদা রঙের অংশে ছিল গান্ধীর ‘চরকা’। এই পতাকা একটা সময় সরকারী ভাবে জাতীয় পতাকা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও, ১৯৪৭ সালের ২২ শে জুলাই অর্থাৎ ভারতবর্ষের স্বাধীনতার প্রাক্কালে ত্রিবর্ণ রঞ্জিত পতাকার মাঝে গান্ধী চরকা সরিয়ে সেখানে অশোক চক্র প্রতিস্থাপন করে রূপ নেয় আজকের জাতীয় পতাকা। যা আজ পর্যন্ত আপামোর ভারতবাসীকে গর্বিত করে চলেছে।

google-news-icon

লেটেস্ট খবর