fbpx

Amitabh Bachchan & Rajiv Gandhi: ছিল জয়-ভীরু সম্পর্ক! রাজনীতিতে নামতেই বিপদে পড়েছিলেন অমিতাভ, শেষ হয়ে রাজীবের বন্ধুত্ব

ঠিক যেন জয়-ভীরু! নিবিড় বন্ধুত্ব থাকা সত্তেও কিভাবে দুরত্ব তৈরি হল ভারতের দুই কিংবদন্তির মধ্যে

মন্টি শীল, কলকাতা: ইদানিং সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখা গিয়েছে বিনোদন জগতের তারকাদের নিয়ে বিভিন্ন কারণে আলোচনায় মগ্ন হয়েছেন নেটনাগরিকরা। যদিও এই আলোচনার সঙ্গে অতপ্রত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন। আর সম্প্রতি এমনই এক আলোচনার সূত্রপাত ঘটেছে বলিউডের শাহেনশাহ তথা অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন ( Amitabh Bachchan ) এবং ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর ( Rajiv Gandhi ) মধ্যে থাকা বন্ধুত্বের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে। শোনা যায়, একদা বচ্চন পরিবারের মধ্যে এক নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। গড়ে উঠেছিল অমিতাভ বচ্চন এবং রাজিব গান্ধীর গভীর বন্ধুত্ব।

যার দরুন এই দুই পরিবার একত্রে জীবনের একাধিক উত্থান পতন চাক্ষুষ করেছেন। কিন্তু কী এমন হল যার ফলে এই দুই পরিবারের সম্পর্ক ধীরে ধীরে তলানিতে চলে এলো? সমালোচকরা মনে করেন, বচ্চন পরিবার এবং গান্ধী পরিবারের মধ্যে থাকা সম্পর্ক কোনও বলিউড সিনেমার থেকে কম কিছু ছিল না। শোনা যায়, অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের বাবা হরিবংশ রায় বচ্চন এবং রাজীব গান্ধীর দাদু তথা ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ছিলেন পরস্পরের ভাল বন্ধু। যার দরুন ছোট থেকে একে অপরের সঙ্গে বিশেষ ভাবে পরিচিত ছিল তাঁরা।  শোনা যায়, তাঁরা একসঙ্গে শৈশবের একাধিক মুহূর্ত অতিবাহিত করেছেন।

20c52

একদা এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন বলেছিলেন, “রাজীব গান্ধী যখন মাত্র দু’বছরের ছিল তখন তাঁর সঙ্গে পরিচয় ঘটে।” শুধু তাই নয় অভিনেতার মন্তব্য অনুযায়ী, ‘যখন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী পড়াশোনার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন তখন সে প্রায়সই তাঁকে চিঠি লিখতেন।’ শোনা যায়, যখন রাজীব গান্ধী বিদেশ থেকে ফিরেছিলেন তখন সে অমিতাভ বচ্চনের জন্য একটি বিশেষ উপহার এনেছিলেন। যা তিনি বহুবছর যত্ন সহকারে নিজের সঙ্গে রেখেছিলেন। এরপর ১৯৬৮ সালে ইটালি ফেরত সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বিয়ে হয় রাজীব গান্ধীর। শোনা যায়,  সেই সময় নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধুর পাশে ছিলেন অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন।

20c53

তবে শুধুমাত্র অমিতাভ নন, মাঝে মধ্যে নিকট বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে বেরিয়ে পড়তেন রাজীব গান্ধী। জানা গিয়েছে, জনপ্রিয় বলিউড সিনেমা ‘গঙ্গা কি সওগন্ধ’ এর শ্যুটিং চলাকালীন হঠাৎই সেটে পৌঁছে গিয়েছিলেন রাজীব গান্ধী। দু’জনের এই নিবিড় বন্ধুত্ব আজও আশির দশকের ইতিহাসে  নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল  হয়ে রয়েছে। এরপর একটা সময় অভিনেতার রাজনীতিতে আসার জল্পনাও দেখা দেয়। এরপর ১৯৮৪ সালে রাজনীতির ময়দানে প্রবেশ করেন এবং এলাহাবাদ থেকে সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হন।

কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার বেশি দিনের জন্য স্থায়ী করেনি। সূত্র মারফত, বোফোর্স কেলেঙ্কারির সময় দেশের তাবড় তাবড় নেতাদের সঙ্গে জুড়তে শুরু করে অভিনেতার নাম। এরপরেই তিনি সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন, যাতে একেবারেই নারাজ ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী। এরপর ১৯৯১ সালে রাজীব গান্ধীর প্রয়ানের পর ধীরে ধীরে গান্ধী ও বচ্চন পরিবারের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে, দূরত্ব তৈরী হয় জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গেও। যা আজও ক্রমবর্তমান।

google-news-icon

লেটেস্ট খবর