fbpx

Jahor Roy: ভানুবাবুর সহকর্মী, একেবারে চ্যাপলিন ভক্ত! সকলকে হাসিয়ে শেষ জীবন কেঁদে কাটিয়েছেন জহর রায়

সকলের মুখে হাসি ফুটিয়ে, অকালেই ঝড়ে যায় প্রাণ! কেন ঘটেছিল জহর রায়ের এমন করুণ পরিণতি?

মন্টি শীল, কলকাতা: সচরাচর দেখা যায় চলচ্চিত্র জগতের কিংবদন্তি তারকাদের নিয়ে বিভিন্ন সময়ে মেতে ওঠেন সিনেমা প্রেমীরা। আর আজ যেই তারকার কথা বলা হতে চলেছে তিনি তাঁর অসামান্য অভিনয়ের কৌশল দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে বিরাট অবদান রেখে গিয়েছেন। তাঁর প্রতিভায় মুখরিত হয়েছে একদা বাংলা সিনেমা। আর সেই প্রতিভাবান তারকা আর কেউ নন, জনপ্রিয় টলিউড অভিনেতা জহর রায় ( Jahor Roy )। একদা জহর রায়ের সঙ্গে অভিনেতা ভানু বন্দোপাধ্যয়ের জুটি আজও অগণিত সিনেমা প্রেমীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।

অভিনয় জগতে তিনি এতটাই দক্ষ ছিলেন যে তিনি যে কোনও চরিত্রের মধ্যে দিয়ে নিজে পর্দায় ফুঁটিয়ে তুলতে পারতেন। অভিনেতা জহর রায় তাঁর সমগ্র অভিনয় কেরিয়ার একাধিক হিট সিনেমা দর্শকদের উপহার দিয়েছেন। যার মধ্যে কিছু জনপ্রিয় সিনেমা হল, ‘ধন্যি মেয়ে’, ‘ভানু গোয়েন্দা জহর অ্যাসিস্ট্যান্ট’, ‘গুপী গাইন বাঘাবাইন’, ‘পরশপাথর’। সূত্র অনুযায়ী, ১৯১৯ সালে বাংলাদেশের বরিশালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এই প্রতিভাবান অভিনেতা। তাঁর বাবা ছেলেন পেশায় একজন অভিনেতা। তাই শৈশব থেকেই অভিনয়ের বিশেষ আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন অভিনেতা জহর রায় ( Jahor Roy )।

21c52

কিন্তু আর্থিক অনটন সহ একাধিক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে তাঁর পরিবার চলে আসেন কলকাতায়। কিন্তু বেশি দিন তিলোত্তমায় থাকা হল না অভিনেতার। কারণ, কর্মসূত্রে তাঁর গোটা পরিবার শহর ছেড়ে প্রস্থান করেন পাটনায়। সেখানেই বড় হয়ে ওঠেন অভিনেতা জহর রায়। শোনা যায়, অভিনেতা জহর রায় তাঁর কেরিয়ারের সূচনা করেছিলেন থিয়েটারে অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে। সেই সময়কার জনপ্রিয় কৌতুক শিল্পী চার্লি চ্যাপলিনের একজন অন্ধ ভক্ত ছিলেন অভিনেতা। তাঁকে অনুসরণ করেই শুরু হয় তাঁর অভিনয়ের সফর। কিন্তু সেই সফর বেশি দিন স্থায়ী হল না। আর্থিক অনটনের কারণে সেই সমস্তকে ভুলে যোগ দেন একটি দর্জির দোকানে।

21c51

কিন্তু হাজারও প্রতিকূলতা আসা সত্তেও জহর রায়’কে বেঁধে রাখতে পারেনি কেউই, ফিরে আসলেন কলকাতায়। হাজারও প্রতিকূলতাকে জয় করার পর ধীরে ধীরে অভিনয়ের জগতে প্রবেশ করতে শুরু করেন অভিনেতা। প্রথমে ছোট খাটো চরিত্র দিয়ে অভিনয় শুরু করলেও, পরিচালক বিমল রায়ের পরিচালিত সিনেমা ‘অঞ্জনগড়’ এর হাত ধরে বড় চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পান অভিনেতা। যার পর স্বাভাবিক ভাবেই দর্শকদের পছন্দের তালিকায় সংযোজন হতে শুরু করেন জহর রায়। কেরিয়ারের মধ্যগগনে থাকাকালীন তিনি বিয়ে করেন, জন্ম হয় এক কন্যা সন্তানের। কিন্তু জন্মের বেশ কিছুদিনের মধ্যেই প্রয়াত হন তাঁর কন্যা সন্তান।

যার শোকে বিষন্ন হয়ে তিনি মদ্যপান শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি চার সন্তানের জন্ম দিলেও মদ্যপান থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেনি, ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকেন মৃত্যুর দিকে। এরপর ১৯৭৭ সালে প্রয়াত হন অভিনেতা জহর রায়। শোনা যায়, প্রয়াণ কালে অভিনেতাকে এড়িয়ে গিয়েছিলেন গোটা চলচ্চিত্র জগৎ। কিন্তু শেষ দিন পর্যন্ত তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন কেবল ভানু বন্দোপাধ্যায় এবং অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। স্বর্ণযুগের একজন প্রতিবান অভিনেতার এমন পরিণতিতে বাংলা চলচ্চিত্র জগৎ যে ফের একবার প্রশ্নের মুখে পড়তে চলেছে তা বলাই যায়।

google-news-icon

লেটেস্ট খবর