Advertisement

Netaji Subhash Chandra Bose : “তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেবো”, স্মৃতিকে ঝালিয়ে নিন

অহেলিকা দও, কলকাতা : “তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেবো”। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর ( Netaji Subhash Chandra Bose ) এই কথাটি মনে করলেই যেনো গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। এখনও প্রতিটি মানুষের রন্ধ্রে রন্ধ্রে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর অবদানের ( contributions) স্মৃতি ( Memories) রয়েছে। তাঁর বৈপ্লবিক ( Revolutionary)  মনোভাব জানো এখনও সমস্ত কিছুকে হার মানায়। ভারতের ইতিহাসে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর মতো ব্যক্তিত্ব ইতিহাসে বিরল ( Rare in history)। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও ( Rabindranath Tagore) তাকে আশীর্বাদ করে বলেছিলেন, “সুভাষচন্দ্র, বাঙালি কবি আমি, বাংলা দেশের হয়ে তােমাকে দেশনায়কের পদে বরণ করি”।

এই অসামান্য ব্যাক্তি জন্মগ্রহণ ( birth) করেছিলেন ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দের ২৩ শে জানুয়ারি। আগামীকাল তাঁর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী ( 125th Birth Anniversary)। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ( Netaji Subhash Chandra Bose) অবদান এবং ভূমিকা সম্পর্কে আমরা বেশি-কম সকলেই মোটামুটি পড়েছি, কিন্তু সকলের কি মনে আছে?  আসুন স্মৃতিকে একটু ঝালিয়ে নেওয়া যাক।

Netaji Subhash Chandra Bose- শিক্ষাজীবন

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ( Netaji Subhash Chandra Bose) জন্মগ্রহণ করেছিলেন উড়িষ্যার কটকে। পিতা জানকীনাথ বসু ও মাতা প্রভাবতী দেবী। ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি কটকের রভেনশ কলেজিয়েট স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন। ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে তাঁকে বিতারিত করার পর তিনি ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে স্কটিশ চার্চ কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে আইসিএস (ICS) পরীক্ষায় তিনি চতুর্থ স্থান লাভ করেছিলেন। ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সেন্টাল মোরাল সায়েন্সে ট্রাইপস পরীক্ষা পাস করে অবশেষে দেশে ফিরেছিলেন।

Netaji Subhash Chandra Bose – পত্রিকা প্রকাশ

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ( Netaji Subhash Chandra Bose) দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের কথামতো জাতীয় আন্দোলনে যোগ দিয়ে ন্যাশনাল কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেছিলেন। তারপর তিনি “স্বরাজ” নামে একটি ইংরাজি পত্রিকা প্রকাশিত করেছিলেন। চিত্তরঞ্জন দাস তাকে বাংলা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির প্রধান দায়িত্বে নিয়োজিত করেছিলেন। ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি কলকাতা কর্পোরেশন নির্বাচনে জয়লাভ করে মুখ্য কার্য নির্বাহী অফিসার হয়েছিলেন। তারপর তিনি “কলকাতা মিউনিসিপাল গেজেট” নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন। ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দের তাঁকে বন্দী করে রেঙ্গুনে পাঠানো হয়েছিল। হাজার চেষ্টার পরও ১৯ খ্রিস্টাব্দের কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী সমিতি থেকে তাকে ও শ্রীনিবাস আয়েঙ্গারকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন- https://thebengalichronicle.com/netaji-subhas-chandra-bose-goes-viral-in-his-birthday/

Netaji Subhash Chandra Bose- অবদান

১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কংগ্রেস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে তিনি এআইটিইউসি (AITUC) এর সভাপতি হয়েছিলেন। তারপর জামশেদপুরের টিস্কোর লেবার অ্যাসোসিয়েশানের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। এমনকি জেলে বন্দী অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও তিনি কলকাতার মেয়র হয়েছিলেন। ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে মার্চে তিনি ভিয়েনা গিয়েছিলেন এবং অস্ট্রিয়া ইন্ডিয়া সোসাইটি স্থাপন করেছিলেন। ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি “ইন্ডিয়ান স্ট্রাগল” নামে একটি গ্রন্থ লিখেছিলেন। ১৯৩৬  খ্রিস্টাব্দে তিনি ভারতে ফিরেছিলেন এবং ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে তাকে শর্তাধীন মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি হরিপুরা কংগ্রেসের সভাপতি হয়েছিলেন। ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ন্যাশনাল প্ল্যানিং কমিটি গঠন করবেন এবং জহরলাল নেহেরুকে এই প্ল্যানিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন।

Netaji Subhas Chandra Bose

Netaji Subhash Chandra Bose- ফরওয়ার্ড ব্লক গঠন

১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে জাতীয় কংগ্রেসের ত্রিপুরী অধিবেশনে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু  ( Netaji Subhash Chandra Bose) দ্বিতীয়বার কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হতে চাইলে গান্ধীজী পট্টভি সীতারামাইয়াকে প্রার্থী করেছিলেন। কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচনে সুভাষচন্দ্র বসু ১৮৫০টি এবং সীতারামাইয়া ১৩৭৭টি ভোট পেয়েছিলেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ২০৩টি ভোটে জয়লাভ করেছিলেন। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে ৯ মে তিনি কংগ্রেসের অভ্যন্তরে “ফরওয়ার্ড ব্লক” নামে একটি নতুন দল গঠন করেছিলেন সেখানে তিনি সভাপতি ও সর্দার শার্দুল সিং সহ সভাপতি হয়েছিলেন। এছাড়াও বিহারের সহজানন্দ এবং বোম্বাইয়ের নরিম্যান ছিলেন। তাঁর লেখা একটি গ্রন্থের নাম “তরুনের স্বপ্ন”।

Netaji Subhash Chandra Bose –  আজাদ হিন্দ ফৌজের নেতৃত্ব দান

১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে ২ জুলাই সুভাষচন্দ্র বসুকে আটক করা হয়েছিলো। তারপর ২ ডিসেম্বর অসুস্থতার কারণে কলকাতায় এলগিন রোডে নিজ গৃহে তাঁকে বন্দী করে রাখা হয়েছিল। ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে ১৭ জানুয়ারি তিনি জিয়াউদ্দিন ছদ্মনামে তাঁর ভাইপো শিশির বসুর সঙ্গে কলকাতা ত্যাগ করেছিলেন। তিনি বিহারের গোমো স্টেশন থেকে পেশোয়ার এবং সেখান থেকে আফগানিস্তান হয়ে রাশিয়া গিয়েছিলেন। ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে ২৪ মার্চ তিনি জার্মানিতে গিয়ে হিটলার ও মুসোলিনির সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে বার্লিনে তিনি হিন্দুস্তান বেতার কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে ডিসেম্বরে জার্মানীর হাতে বন্দী ৪০০ জন ভারতীয় নিয়ে ‘ইন্ডিয়ান লিজিয়ন’ বা ‘ফ্রি ইন্ডিয়া আর্মি’ নামে একটি সেনাদল গঠন করেছিলেন। এই সেনাদল তাকে প্রথম “নেতাজি” আখ্যা দিয়েছিলেন এবং ‘জয়হিন্দ’ ধ্বনি দিয়ে অভিবাদন জানিয়েছিল।

১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে ১৫ জুলাই ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি গঠিত হয় প্রায় ৪০ হাজার ভারতীয়দের নিয়ে। পাঞ্জাবের ১৪ নং রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন মোহন সিং এই বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে জুন মাসে রাজবিহারী বসু জাপানে ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লীগ গঠন করেছিলেন এবং ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ১লা সেপ্টেম্বর আজাদ হিন্দ ফৌজ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল। ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে ১৩ জুন ডুবোজাহাজে করে সঙ্গী হবিবুর রহমানের সঙ্গে নেতাজি জার্মানি থেকে জাপানের টোকিওতে গিয়েছিলেন। স্বয়ং জাপানের প্রধানমন্ত্রী তোজো তাঁকে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন।

Netaji Subhash Chandra Bose

১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে ২ জুলাই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সিঙ্গাপুরে পৌঁছান এবং ৪ জুলাই রাজবিহারী বসু নেতাজির হাতে ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লীগের দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন।   ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে ২৫ আগষ্ট তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নেতাজির আজাদ হিন্দবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং ২১ অক্টোবর আজাদ হিন্দ সরকার নামে অস্থায়ী ভারত সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে ৫ জুলাই তিনি “দিল্লি চলো” ডাক দিয়েছিলেন। আজাদ হিন্দবাহিনীতে ছিল গান্ধী ব্রিগেড, আজাদ ব্রিগেড, নেহেরু ব্রিগেড, সুভাষ ব্রিগেড এবং ঝাসির রানি ব্রিগেড। ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে ২৩ অক্টোবর আজাদ হিন্দ  সরকার ব্রিটেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। জাপান, থাইল্যান্ড, জার্মানি, ইতালি প্রভৃতি ৭ টি দেশ এই সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

৬ নভেম্বর জাপানের প্রধানমন্ত্রী তোজো আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ দুটি আজাদ হিন্দ সরকারের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এই দুটি দ্বীপের নাম পরিবর্তন করে রেখেছিলেন শহীদ ও স্বরাজ দ্বীপ। ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দের ৪ জানুয়ারি নেতাজি রেঙ্গুন এ প্রধান সামরিক দপ্তর স্থাপন করেছিলেন। আজাদ হিন্দ সরকারের মূলধনী ছিল “জয়হিন্দ দিল্ল চলো”। ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে ত্রীবর্ণ রঙিন ভারতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় ভারতের মাটিতে। ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে ১৫ আগষ্ট জাপান ভারতের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। ধারণা করা হয় যে, ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে ১৮ আগষ্ট তাইহোকু বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যুবরণ করেছিলেন।

আরও পড়ুন-  https://thebengalichronicle.com/netaji-subhash-chandra-bose-biopics/

Netaji Subhash Chandra Bose- আজাদ হিন্দ সরকারের মন্ত্রিসভা

আজাদ হিন্দ সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথমেই ছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু রাষ্ট্রনায়ক, প্রধানমন্ত্রী, যুদ্ধ ও পরাষ্ট্রমন্ত্রী, সর্বাধিনায়ক হিসেবে। দ্বিতীয়ত ছিলেন এ. ইস চ্যাটার্জি অর্থ বিভাগে। তৃতীয়ত ছিলেন এস.এ. আয়ার প্রচার সচিব হিসেবে। চতুর্থত ছিলেন লক্ষ্মী স্বামীনাথন মহিলা বিভাগে। পঞ্চম ছিলেন এ. এস. সহায় সচিব হিসেবে। ষষ্ঠ ছিলেন রাজবিহারী বসু প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে। সপ্তম ছিলেন এ. এন সরকার আইনগত উপদেষ্টা হিসেবে।

আজ নেতাজীর ১২৫ তম জন্মবার্ষিকীতে মনে করিয়ে দেয় সেই কণ্ঠস্বরের প্রভাব। আর ওই তীব্র কথাই সেদিন আর একধাপ এগিয়ে দিয়েছিল ভারতবর্ষের স্বাধীনতাকে‌। নেতাজী সেদিনও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন শুধুমাত্র অস্ত্র দিয়েই যুদ্ধ জেতা যায় না তার জন্য দরকার হয় রণকৌশল। সেদিনের অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসকদেরও চাপে ফেলে দিয়েছিলেন বাঙালি এক যুবক, আমাদের দেশ নায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।

আরও পড়ুন-  https://thebengalichronicle.com/netaji-subhash-chandra-bose-made-history-of-azad-hind-radio/



Follow us on


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement
Back to top button
Advertisement
Advertisement