fbpx

Pather Panchali: ৬৭ বছরে পা অপু-দূর্গার সাদা-কালো ফ্রেমের রঙিন মুহূর্তে, বঙ্গবাসীর চোখে কেমন ছিল এই যাত্রা?

সাল ১৯৪৪, দেশ তখন স্বাধীনতার আন্দোলনে তোলপাড়। সেই সময় কলকাতার বিজ্ঞাপন অফিসে বসেই পথের পাঁচালী উপন্যাসের অলংকরণ করার আগে গোটা বইটি পড়ে ফেলেন সত্যজিৎ রায়।

দূর থেকে একটা শব্দ যেন ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। এগিয়ে আসছে অপু-দুর্গার (Apu-Durga) দিকে। একটা ছোট্ট উত্তেজনা সেকেন্ডের নিরিখেই প্রাপ্ত বয়স্ক রূপ ধারণ করে ফেলল তাঁদের মনে। সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন ক্যামেরার অ্যাঙ্গেলে। দর্শকদের মনে চিরকালই ফ্রেমবন্দি থেকে যাবে এই দৃশ্য। 

পথের পাঁচালী, বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের (Bibhutibhushan Bandyopadhyay) কাহিনী ও সত্যজিৎ রায়ের (Satyajit Ray) সেটিকে জীবন্ত রূপ প্রদান। ছাপোষা বাঙালির বুকে চিরকালই যেন বাসা বেঁধে থেকে যাবে এই চলচিত্র। আর শুধুই বাঙালি নয়, অপূর্ব সিনেমাটিক মুন্সিয়ানায় গোটা বিশ্বই এই চলচিত্রকে আপন করে নেয়। তবে চলচিত্রে রূপান্তরের আগে অক্ষরের রূপেই কবি বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের কলমের কালি হয়ে চুইয়ে জন্ম অপু-দুর্গার। আর সেখান থেকেই শুরু যাত্রা (Pather Panchali )। 

উল্লেখ্য, বিভূতিভূষণ থেকে সত্যজিৎ, বাঙালি জানে কেমন ছিল এ যাত্রা? ১৯২৮ সালে একটি সাময়িকপত্রে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হতে শুরু করে পথের পাঁচালী উপন্যাস। মানুষের মনে তখনই নাকি বেশ জায়গা করে নিয়েছিল অপু-দুর্গার কাহিনী। এরপরই এক বিরাট পরিবর্তন। এক বছরের মধ্যে অর্থাৎ ১৯২৯ সালে সম্পূর্ণ পুস্তক রূপে প্রকাশ পায় ‛পথের পাঁচালী’।

satyajit ray3

সাল ১৯৪৪, দেশ তখন স্বাধীনতার আন্দোলনে তোলপাড়। সেই সময় কলকাতার বিজ্ঞাপন অফিসে বসেই পথের পাঁচালী উপন্যাসের অলংকরণ করার আগে গোটা বইটি পড়ে ফেলেন সত্যজিৎ রায়। বইটি পড়ে এক আশ্চর্য অনুভূতির শিকার হন তিনি। মনে এঁকে ফেলেন একাধিক ছবি। উদ্যোগ নেন উপন্যাসটিকে সিনেমায় রূপান্তরের। এমতাবস্থায় তাকে অনুমতি দিয়েছিলেন বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের স্ত্রী গৌরী দেবী। তবে এই উপন্যাসকে চলচিত্রে রূপান্তরের দায়িত্ব নিয়েও বিশেষ কিছু চিত্রনাট্য তৈরি করেননি সত্যজিৎ। 

জানা যায়, জাহাজে অফিসের কাজে লন্ডন যাওয়ার সময়ই নিজের নোটবুকে ছোট ছোট অলংকরণের কাজ তৈরি করেছিলেন তিনি। আর তাই পরবর্তীতে পরিণত হয় আস্ত একটা দৃশ্যে। তবে চিত্রনাট্য তৈরি পর ঘরে ফিরে ছবির কাজ শুরু করতে বেশ আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। স্ত্রী’য়ের গহনা নাকি বেশ কয়েকটা দৃশ্য শ্যুটিংয়ের কাজে এসেছিল। বস্তুত নিজের সংগ্রহের পুরানো কিছু রেকর্ড বিক্রি করেই কিছু দৃশ্যের শ্যুটিং ও তারপর সেগুলি দেখিয়েই টাকা তোলার ব্যবস্থা করা। এখানেই হয় তো জন্ম নেয় ভালবাসার। স্বামীর স্বপ্ন পূরণে নিজের গহনা তুলে দেন তাঁর হাতে। 

শুরু হয় শ্যুটিংয়ের কাজ। ট্রেনের সেই বিখ্যাত দৃশ্য সংগ্রহের জন্য একের পর এক চেষ্টা ও তারপর সেই পটকে ব্যবহার করেই টাকার জন্য প্রযোজক ও বিত্তশালীদের দুয়ারে দুয়ারে ভ্রমণ। এই যেন ছিল নিত্যনৈমিত্তিক কর্ম। তবে ভাগ্যের দুয়ার খোলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হাত ধরে। ছবির দায়িত্ব তৎকালীন বাংলার সরকার। আর এরপরই হুড়মুড়িয়ে শুরু হয়ে যায় কাজ। যার ফলাফল এই বাংলা তথা বিশ্বের বুকে আজও জীবন্ত।  

google-news-icon

লেটেস্ট খবর