fbpx

Robot: বিপদে মানবসভ্যতা? এবার বাচ্চার জন্ম দিতে সক্ষম রোবটরাও

জয়িতা চৌধুরি, কলকাতাঃ মানুষ বা যেকোন জীবের বংশধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রজনন আবশ্যক। অষ্টম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান বইতে আমরা হয়ত সকলেই পড়েছি এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে জিনকে প্রেরণ করার জন্য জীব তিনটি উপায় অবলম্বন করে বংশবিস্তার করে। ১. মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীদের যৌন প্রজনন, ২. এক কোশী প্রাণীদের কোশ বিভাজনের মাধ্যমে অপত্য কোশ সৃষ্টি , বিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে অযৌন জনন বলে। এবং ৩. উদ্ভিদের অঙ্গজ জনন। তবে জানেন কি সম্প্রতি এই তিন ধরণের জননের বাইরেও আরও একপ্রকার জনন পদ্ধতির সন্ধান দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা? জানলে অবাক হবেন একবিংশ শতকে দাঁড়িয়ে বিজ্ঞান এতটাই উন্নত হয়েছে যে এখন প্রজননের জন্য কোন জীব নয়, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে প্রজননে সক্ষম রোবট!

সম্প্রতি University of Vermont, Taifos University ও Harvard University গবেষকরা এই অসম্ভবকেই সম্ভবপর করে তুলেছেন। অভিনব এই রোবটের নাম জেনোবট। যার বিজ্ঞানসম্মত নাম জেনোপাস লেভিস। ব্যাঙের ভ্রূণের কোশ থেকে তৈরি এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। তবে জীবন্ত কোশ থেকে তৈরি হলেও এই কোশ সমষ্টি কখনই প্রানী নয়। জীবিত কোশ থেকে পূর্ণাঙ্গ এবং জৈবিক কার্য সম্পাদন করতে অনেকগুলি ধাপ পেরোতে হয়। আর তাই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স দিয়ে তৈরি হয় বলে একে রোবট হিসেবেই গন্য করা হচ্ছে।

jenobot 1

এ প্রসঙ্গে দ্য ইউনিভার্সিটি অফ ভারমন্টের প্রেস রিলিজে় ভারমন্ট ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী এবং রোবটিকস-বিশেষজ্ঞ ড. জশুয়া বনগার্ড জানাচ্ছেন, ‘জেনোবট চিরাচরিত কোনও রোবটও নয়, আবার কোনও নতুন প্রজাতির প্রাণীও নয়। এটা নতুন ধরণের যন্ত্রাংশ: যা জীবিত, আবার যাকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং-এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণও করা যায়।‘

জেনোবট নাকি কাঁচের প্লেটে সাঁতার কাটে এবং চারপাশে ঘুরে বেড়ানো কোশগুলিকে মুখের মধ্যে সংগ্রহ করে। জেনোবটের মুখের সঙ্গে নাকি প্যাকম্যানের হুবহু মিল। মুখের ভিতরের এক একটা কোশ এক একটি জেনোবটে পরিণত হয়। পরিণত জেনোবটগুলি আবার নতুন নতুন জেনোবটে পরিণত হয়। এভাবেই এই রোবট তার বংশ বিস্তার করে।

jenobot 2

একটি জেনোবট তৈরি হতে প্রায় তিন হাজারটি কোশ দরকার হয়। আয়তনে এক মিলিমিটারের কাছাকাছি এক-একটি জেনোবট। কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে জেনোবটগুলির আকার নির্ধারণ করা হয়। এমন ভাবেই জেনোবটের আকার নির্ধারণ করা হয় যাতে তারা জলে সাঁতার কাটতে পারে। সাঁতার কাটতে কাটতেই রোবটগুলি একপ্রকার প্রতিলিপি তৈরি করে। গতিভিত্তিক প্রতিলিপিকরণ ‘কাইম্যাটিক রেপ্লিকেশন’ বলা হয়। গবেষকদের মতে, কাইনেম্যাটিক রেপ্লিকেশন আণবিক স্তরে দেখা গেলেও, আগে কখনও কোশীয় স্তরে দেখা যায়নি। তাদের এই গবেষণাতে প্রমাণিত হয়েছে হাজার-হাজার কোশের সমষ্টিও আদতে কাইনেম্যাটিক রেপ্লিকেশনে সক্ষম।

google-news-icon

লেটেস্ট খবর