fbpx

“২০ টাকা আয় করে, ১০ টাকা দিতে হত দালালকে!”, টলি পাড়া নিয়ে বিস্ফোরক সাবিত্রী

রিয়া পাল,কলকাতা: টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে একটি উজ্জল নক্ষত্র হল সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। যে নক্ষত্র আজও তার জ‍্যোতি ধরে রেখেছে। তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে আছেন বহু বছর হয়ে গেল। বাংলা সিনেমার গ্রাফের অনেক ওঠা পড়া দেখেছেন তিনি। ইন্ডাস্ট্রিতে তাকে নিয়ে অনেক গুজব উঠেছে। তার সঙ্গে মহানায়ক উত্তম কুমারের সম্পর্কের গুজব বহুবার উঠেছে এই টলিউডে। যদিও এটি সম্পূর্ণ গুজব নয় তা অভিনেত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন। একবার রচনা ব‍্যানার্জী তাকে জিজ্ঞাসা করেন তিনি বিয়ে করেননি কেন কোন মনের মানুষ ছাড়াই কীভাবে তিনি এতোগুলো বছর পার করে এলেন। তার উত্তরে তিনি বলেন তিনি যারই প্রেমে পরতেন তিনি বিবাহিত থাকতেন। তার জীবনের আফসোস যে তিনি কোনদিনও অবিবাহিত কোন ব্যক্তির প্রেমে পড়ে উঠতে পারেননি।

তিনি মজার করে আরও বলেন যে যদি এখন কোন খালি ব্যক্তি থাকেন তার সঙ্গে তিনি প্রেম করতে রাজি তিনি। বাংলাদেশের কুমিল্লায় জন্ম অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের। তারা দশ বোন ছিলেন। প্রথম জীবনে কোনদিনও ইলেকট্রিক লাইট দেখেননি অভিনেত্রী। একদিন তার খুব ইচ্ছে হয় কলকাতা দেখবার। কলকাতায় এসে ভয়ানক জীবন সংগ্রামের মুখে(savitri chatterjee life struggle) পড়তে হয়েছিল অভিনেত্রীকে। এমনকি বিছানার বদলের ইটের উপরে শুতে হয়েছিল তাকে।

sabitri chatterjeeএত জীবন সংগ্রামের পরও কীভাবে এই অভিনয় জীবনে আসেন সে এক কাহিনী। তিনি যখন স্কুলে যেতেন ভানু ব্যানার্জি তার দিকে তাকিয়ে থাকতেন। একদিন ভানু ব্যানার্জি নিজেই তাকে ডাকেন। ভানু ব্যানার্জি শুনেছিলেন তিনি বাংলাদেশের মেয়ে। তিনি উদ্বাস্তুদের নিয়ে বাঙাল ভাষায় একটি নাটকের জন্য সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়কে বলেন। তখন থেকে তার অভিনয়ের যাত্রা শুরু। শিশু চরিত্র হিসেবে টলিউডে প্রথম কাজ করেন তিনি। সারাদিন অভিনয় করে কুড়ি টাকা উপার্জন করতেন তার মধ্যেও দালালরা তার দশ টাকা চুরি করে নিয়ে যেতেন। এভাবেই একদিন ভানু ব্যানার্জীর একটি নাটক দর্শকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন…তীর্থযাত্রীদের জন‍্য সুখবর, খুলছে অমরনাথের যাত্রাপথ জানুন বিস্তারিত

আরও পড়ুন….‘টাকার অভাবে তিনবার গর্ভপাত করিয়েছি’, সম্রাট-ময়নার কাহিনী শুনে চোখে জল নেটবাসীর

এভাবে তার দিন চলতে চলতে একদিন পাশের বাড়ি বলে একটি সিনেমার মাধ্যমে তিনি সিনেমা জগতে আত্মপ্রকাশ(savitri chatterjee in the tollywood industry) করেন। জীবনে প্রথম সিনেমা সুপার ডুপার হিট হয় তার। ৫০ টাকা ভাড়ার একটি ছোট্ট ঘরে তারা কুড়ি জন মিলে থাকতেন। তারপর একদিন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি উপন্যাস অবলম্বনে সিনেমার জন্য তার কাছে ডাক যায়। যদিও পরিচালক তাকে দেখে বলেছিলেন যে তিনি করতে পারবেন না। কিন্তু অভিনেত্রী পরিচালকের পা ধরে কান্নাকাটি করে সেই চরিত্রটির করার অনুরোধ জানান। তারপর সেই ছবি হয়ে ওঠে একটি মাইলস্টোন। উত্তম কুমার তার চোখের দিকে তাকালেই নাকি ডায়লগ ভুলে যেতেন। তাই কোনদিনও সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের চোখের দিকে তাকাতেন না শটের আগে। এমন জাদু ছিল অভিনেত্রীর চোখে।

এতগুলো বছর তিনি কাটিয়ে ফেলেছেন মনের মানুষ ছাড়া। কোনদিনও একা অনুভব করেননি তিনি? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন তার নয় বোনেরা তাকে কোনদিনও একা অনুভব করতে দেননি। তবে অভিনেত্রীর ছোট বোন চলে যাওয়ার পর তিনি খুব একা হয়ে গিয়েছেন এখন। কিন্তু জীবনে কোনদিনও আনন্দ উপভোগ করতে ছাড়েননি তিনি। লং টপ কিংবা পালাজো প্যান্টে অনন‍্য সাজে তিনি পার্টি করেন জন্মদিনে।

google-news-icon

লেটেস্ট খবর