fbpx

কেকে’র মুখে মুচকি হাসি, জ্যোতির গালে লজ্জা! গায়কের জন্মদিনে পুরানো ছবি যেন সম্বল স্ত্রী’য়ের

বলিউডে কোনরকম পরিচিতি ছাড়াও যে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায়, তার জল জ্যান্ত উদাহরণ কেকে।

অনীশ দে, কলকাতা: মাসখানেক আগে সবাইকে ছেড়ে সুরোলোকে গমন করেছিলেন কৃষ্ণ কুমার কুন্নত (KK)। ভারতবর্ষে এমন অভিনেতা খুব কম আছেন যাদের ছবিতে কেকে-র কোনও গান ব্যবহৃত হয়নি। আজ কেকে-র ৫৪ তম জন্মদিন। কিন্তু অন্যান্য বছরের মতো এইবার এর তাঁর অনুগামীদের শুভেচ্ছায় সাড়া দেবেন না প্রয়াত গায়ক (KK)। বলিউডে কোনরকম পরিচিতি ছাড়াও যে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায়, তার জল জ্যান্ত উদাহরণ কেকে। মালায়ালাম এই গায়কের গানের যাত্রা শুরু হয় ছোট ছোট জিঙ্গেলের মাধ্যমে। পরবর্তীতে সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘হম দিল দে চুকে সনম’ ছবিতে তরপ তরপ গানের হাত ধরে লাইমলাইটে আসেন কেকে (KK)। তারপর থেকে আর কখনও তাঁকে পিছনে তাকাতে হয়নি।

kk 9

কিন্তু খুব কম লোকই জানে কেকে-র এই দীর্ঘ পথে তাঁর সঙ্গে একমাত্র ছিলেন তাঁর স্ত্রী জ্যোতি কৃষ্ণা (Jyothy Krishna)। বলিউডের মূলস্রোতের গায়ক হয়ে ওঠার অনেক আগেই পরিণয় সেরেছিলেন কেকে এবং জ্যোতি। কেকে-র কঠিনতম দিনে তাঁকে একমাত্র সাহারা দিয়েছেন স্ত্রী জ্যোতি। ছোটবেলার বন্ধু তাঁরা, ষষ্ঠ শ্রেণীতে জ্যোতিকে প্রথম দেখেন কেকে। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব পেরিয়ে ১৯৯১ সালে জ্যোতিকে বিয়ে করেন কেকে (KK)। দুই সন্তান নকুল এবং তামারাকে নিয়ে বেশ সুখেই সংসার কাটাচ্ছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেই সুখ আর রইল কোথায়? সময়ের আগেই সবাইকে আলবিদা জানিয়েছেন কেকে (KK)।

kk 12

নিজের দেওয়া একাধিক সাক্ষাৎকারে স্ত্রীয়ের প্রতি অমোঘ ভালোবাসা ব্যক্ত করেছিলেন কেকে। ২০১৩ সালে এক মিউজিক কোম্পানিকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় কেকে জানিয়েছিলেন, ‘মূলত আমার স্ত্রী জ্যোতির জন্যই আমি বম্বেতে আসি। আমার কঠিনতম সময়ে আমাকে মানসিক শান্তি দিয়েছে জ্যোতি, তাছাড়াও যখন কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার সমস্যা হয় তখন জ্যোতিই আমায় সাহায্য করেছে এমনকী এখনও করে। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে বিয়ে করায় আমার একদিকে সুবিধাই হয়েছে কারণ তা না হলে আমি হয়তো প্রতিষ্ঠিত হতে পারতাম না’।

kk 8

৩১ মে কলকাতার নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠান চলাকালীন হটাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এই বর্ষীয়ান গায়ক। কিন্তু চরম অস্বস্তি হলেও গান থামাননি কেকে। কারন এত ভিড় যে তাঁকে দেখতেই এসেছিল। অনুষ্ঠান শেষে তড়িঘড়ি গাড়িতে করে রওনা দেন কেকে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। শারীরিক অবনতি আরও বাড়তে থাকে। শেষমেশ সবাইকে ছেড়ে সুরোলোকে পাড়ি দেন কৃষ্ণ কুমার কুন্নত। কোনরকম তালিম ছাড়াই সুরের রাজা হয়ে উঠেছিলেন কেকে। আজ তাঁর জন্মদিনে যেন আবার মনে পড়ে গেল সেই গান, ‘হম রহে ইয়া না রহে কাল, কাল ইয়াদ আয়েঙ্গে ইয় পল’।

google-news-icon

লেটেস্ট খবর