fbpx

শ্বশুরবাড়ি থেকে ‘অভিনব’ পণ নিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিলেন জামাই, প্রশংসায় পঞ্চমুখ সকলে

ওয়েব ডেস্ক: পণপ্রথা, কুপ্রথা। কিন্তু আজকের একবিংশ শতাব্দীতে ভারতের আনাচে-কানাচে রয়ে গিয়েছে এই মধ্যযুগীয় প্রথা। অশিক্ষা আর অপরিসীম লোভ আজও টিকিয়ে রেখেছে এই পণপ্রথাকে। পণে দাবিতে প্রতিদিনই ঘটে চলেছে বধূনির্যাতনের ঘটনা। তবে এক্ষেত্রে শ্বশুরমশাই নিয়ে যেচে পণ দিতে চেয়েছিলেন জামাইকে। কিন্তু পণ নেওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন মানকুণ্ডুর বাসিন্দা সুরজিত পাল। কিন্ত শ্বাশুরের নাছোড়বান্দা মনোভাব দেখে পণের বদলে চাইলেন এমন এক উপহার, যা নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকার মানুষদের মধ্যে। জামাইয়ের এধরনের কীর্তি দেখে তাকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন শ্বশুরবাড়ির লোক।

জানা গিয়েছে, গত ১৪ আগস্ট বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মানকুণ্ডর বাসিন্দা সুরজিৎ পাল। বিয়েতে পন নেওয়ার কথা স্বপ্নেও ভাবেননি সুরজিৎ। কিন্তু নাছোড়বান্দা শ্বশুর। একমাত্র মেয়ের বিয়ে বলে কথা! তাই পণ যে সুরজিৎকে নিতেই হবে, ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। অবশেষে কোনও উপায় না দেখে রাজি হন জামাই, কিন্তু পনের বদলে চেয়ে নিলেন খাতা-পেন-পেন্সিল। বিয়ের আসরেই তা তুলে দিলেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘গ্রীনহার্ট চন্দননগর’-এর হাতে। যা খুব শীঘ্রই পৌঁছে যাবে পুরুলিয়ার শরব শিশুদের কাছে।

ভারতের বহুপ্রাচীন আদিবাসী সম্প্রদায় হল শরব। যা বর্তমানে বিলুপ্তির পথে। পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে পুরুলিয়ার পুঞ্চা গ্রামে শরব সম্প্রদায়ের মানুষের বাস। কিছুদিনের মধ্যে সেখানেই পৌঁছে যাবে ‘গ্রীনহার্ট চন্দননগর’। শরব শিশুদের হাতে তুলে দেবে খাতা-পেন-পেন্সিল। যারা শিক্ষার আলো থেকে বহু দূরে, তাদের মধ্যে শিক্ষার সঞ্চার ঘটাবে ‘গ্রীনহার্ট’। ইতিমধ্যেই আগামী এক বছরের জন্য শরব শিশুদের অন্ন এবং শিক্ষার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে চন্দননগরের এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি।

সুরজিতের অভাবনীয় চিন্তাধারা দেখে আপ্লুত বিয়েবাড়িতে নিমন্ত্রিত অতিথিরাও। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফে ঘটনাটি সোশ‍্যাল মিডিয়ায় জানানো হয়েছে ইতিমধ্যেই। যা নিয়ে রীতিমতো হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। এধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে প্রায় সকলেই। অনেকেই বলছেন, সুরজিৎ সমাজের কাছে একটা উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। তার দেখাদেখি ভবিষ্যতে যদি আরও অনেকে এগিয়ে আসে, তা সমাজেরই মঙ্গল। অনেকে আবার বলছেন, যতদিন না দেশ থেকে এই প্রথা পুরোপুরি নির্মূল হচ্ছে, ততদিন এরকম ব‍্যতিক্রমী উদ‍্যোগ‌ই বা মন্দ কী?

google-news-icon

লেটেস্ট খবর