fbpx

Sunderban:”প্রাণ বাঁচাতে টিপে ধরল বাঘের গলা!” কামালের সাহসিকতাকে সাবাসি জানাচ্ছে সুন্দরবনের মানুষ

সুন্দরবন, এমন ভয়ংকর সৌন্দর্য পৃথিবীতে বিরল। প্রকৃতি, মানুষ আর হিংস্র জানোয়ারের বাস পাশাপাশি। একদিকে ক্ষিদের তাড়না আর অন্যদিকে খাদকের হাতে প্রাণ দেওয়া,সুন্দরবনের মানুষের রোজকার ঘটনা। ১১ বছর হলেই সুন্দরবনের ছেলেরা কেউ ঘরে বসে থাকে না। জঙ্গলের মধু মোম,কাঠ আর খালের মাছ, কাঁকড়া ধরার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিতেও পিছ-পা হয় না। গ্রামে ঢুকলে শোনা যায়, মহিলাদের হাহাকার। কারও স্বামী, কারও ছেলে, কারও বাবা ডাকার মানুষ গুলো জঙ্গলের মধ্যেই মিলিয়ে গেছে। এখানে ‘যমে মানুষে টানাটানির’ সাক্ষাৎ যম হল বাঘ।রহস্যময়ী সুন্দরবনের রাজা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, তার নজর যার ওপর পরে তাকে বাঁচায় এমন সাধ্য কার! তবে মানুষের বুদ্ধির সামনে পরাজয় স্বীকার করে প্রকৃতিও। সুন্দরবনে যাঁরা বাঘের সঙ্গে যুদ্ধ করে প্রাণে বেঁচে আছেন, তারা কোনও সৈনিকের চেয়ে কম নয়। টাইগার কামাল সেইরকম এক টাইগার যোদ্ধা।

img 20220801 132426
আর পাঁচটা দিনের মতো সেদিনও জঙ্গলে গিয়েছিল কামাল, পেশায় মৎস্যজীবী। নদীতে নামল নৌকা, ধীরে ধীরে মূল নদী ছেড়ে কামালরা ঢুকল খালে। সরু নালা খাল, এখানেই মাছেদের বসবাস। এক মানুষ সমান ঝোপঝাড় খালের দু’ধারে। কোথায় বিপদ ওৎ পেতে বসে আছে, নৌকা যাত্রীরা টেরও পাবে না। হলও তাই, যখন কামাল জানতে পারল তখন ও বাঘের মুখোমুখি। কিছু বোঝার আগেই এক থাবা এসে পড়ল মুখের ওপর। নৌকা দুলে উঠেই কামাল পড়ে গেল খালের জলে। বাঘ তখন সোজা বুকের ওপর।কাদায় মাখামাখি কামালের শরীর, বুকের ওপর বসে আছে মৃত্যু দূত। একটু নড়াচড়া করলেই পরের থাবা। যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ। প্রাণপনে দেহটাকে প্রায় নিশ্চল করে রেখে দিল। কিন্তু কতক্ষণ? টানা ৪০-৪৫ মিনিট মৃত্যুকে বুকে নিয়ে থাকা কী সম্ভব! তাছাড়া বাকিরা মাঝিদের সাড়া শব্দ নেই। তবে কি সে একা! কেউ নেই উদ্ধার করার মতো। মাথাটা তুলতেই আর এক থাবা। চোখ থেকে মাথার অংশ খুবলে চলে গেল। না তখনও প্রাণ আছে, তাই আর অপেক্ষা নয়। মরার আগে শেষ চেষ্টা কামাল প্রাণপণে টিপে ধরল বাঘের গলা, আর চিৎকার করে মাঝিভাইদের ডাকতে থাকল। একদলা কাদা আর বালি বাঘের চোখে ছুঁড়ে দিতেই শিকার ছাড়তে বাধ্য হল বাঘ। দৌড়ে মিলিয়ে গেল জঙ্গলে। মৃতপ্রায় অবস্থায় উদ্ধার করা হল কামালকে।

রক্তে ভেজা শরীর, দৃষ্টিশক্তি চলে গিয়েছে প্রায়। প্রাণে বাঁচার আশা নেই। নিয়ে যাওয়া হল নিকটবর্তী হাসপাতালে। সেখানে পরিকাঠামো ছিলনা, ডাক্তার কোনও আশা দেখাতে পারেনি। পরে খুলনা হাসপাতালে প্রায় দেড়-দুই মাস মৃত্যুর মুখোমুখি। পরে ক্ষীণ দৃষ্টিশক্তি নিয়ে ফিরে আসে কামাল। উপস্থিত বুদ্ধি আর দুঃসাহসিক কাজের জন্য কামালকে ‘টাইগার কামাল’ বলে ডাকে গ্রামবাসী। বাংলাদেশ নিবাসী কামাল এখনও সমস্ত জটিলতা কাটিয়ে ওঠেনি। চোখের সমস্যা জন্য সে ভারতে চিকিৎসা করাতে চায়। বাঘের সঙ্গে যুদ্ধে জিতলেও, অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ তাঁর আমরণ।

google-news-icon

লেটেস্ট খবর