fbpx

Begunkodar: রাত বাড়তেই প্ল্যাটফর্ম জুড়ে কান্নার শব্দ! বঙ্গের এই স্টেশনে আজও থামে না কোনও ট্রেন

মন্টি শীল, কলকাতা : বিকেল গড়িয়ে এখন চতুর্দিকে শুধুই বিরাজমান ঘন অন্ধকার। এক পা ও এগিয়ে যাওয়া দায় মনে হচ্ছে এই অন্ধকারে। এমন সময় দুর থেকে ভেসে এল হালকা আলোর জ্যোতি, যা ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। কিছুক্ষণ পর দেখা গেল সেটি একটি ট্রেন যা এক গন্তব্য ছেড়ে অপর গন্তব্যের দিকে ছুটে চলেছে। কিন্তু স্টেশন পেড়িয়ে গেলেও দাঁড়ালনা ট্রেনটি। সে ছুঁটে চলল আপন বেগে। তবে আজ নয়, এই কাজ হয়ে আসছে বিগত ৫৫ বছর ধরে। শোনা গেল গত ৪২ বছরে এই স্টেশনে দাঁড়ায়নি কোনও ট্রেন, নামেননি কোনও যাত্রী।

img 20220703 133610 084

এমনকী, এই স্টেশনের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় রীতিমতো জানলা দরজা বন্ধ করে রাখেন ট্রেনের যাত্রীরা। কিন্তু কেন এই অবস্থা? কারণ জানলে গায়ে কাটা দেবে আপনারও। শোনা যায়, ওই স্টেশনে নাকি একটি মেয়ে ভুত রয়েছে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামলেই দেখা মেলে তাঁর। এমনকী দেখা যায় তাঁর অদ্ভুত সব কান্ড কারখানা। তাই তাঁর ভয়ে সন্ধের পর স্টেশন মুখো হন না কেউই। যার ফলে গোটা স্টেশন চত্ত্বরে বিরাজ করে এক অদ্ভুত দমবন্ধ করা অন্ধকার। শোনা যায় স্টেশনটির নাম বেগুনকোদর ( Begunkodar )।

img 20220703 133606 238

পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ড রাজ্যের সংযোগ স্থাপনকারী এই স্টেশনটি পুরুলিয়া জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে অবস্থিত। জানা গিয়েছে, গত ৪২ বছর এই স্টেশনে কোনও ট্রেন থামেনি। যদিও বর্তমানে দিনের আলোয় দু’একটা ট্রেন দাঁড়ালেও, রাতের বেলা একেবারেই থামেনা ট্রেন। যার কারণ সেই মেয়েটি। একটি সময় এই ভুতুড়ে কার্যকলাপ খোদ চাক্ষুষ করেছিলেন স্টেশনে কর্মরত স্টেশন মাস্টার নিজেই। এরপর শোনা যায়, গুরুতর অসুস্থতার দরুন মৃত্যু ঘটে ওই স্টেশন মাস্টারের। এরপর কোনও স্টেশন মাস্টার বেশি দিন সেখানে স্থায়ী করেননি।

img 20220703 133611 490

স্থানীয় সূত্র অনুসারে জানা গিয়েছে, বেশ কিছু বছর পূর্বে ট্রেন ধরতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মৃত্যু হয় একজন মহিলার। আর সেই থেকেই তাঁর আত্মা স্টেশনের চতুর্দিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যার দরুন হাজার ব্যস্ততা থাকলেও এই স্টেশনটিকে এড়িয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে জানা গিয়েছে, পরবর্তী সময়ে গ্রামবাসীদের উদ্যোগে রেল স্টেশন সচল করার জন্য তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন করেন। তাঁর ঠিক দু’বছর পর সরকার পক্ষ থেকে ওই স্টেশন জনসমক্ষের জন্য খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু সমস্তকিছু সচল থাকলেও আজও সেই ভীতি ক্রমবর্তমান এই বেগুনকোদর ( Begunkodar ) স্টেশনে।

google-news-icon

লেটেস্ট খবর